Posts

Showing posts from January, 2018

আমি একটি পাগল

Image
গল্প শুনবি, আমার জীবনের গল্প পাঁচ বছর পর আমায় দেখতে এলি, ভালো  আছিরে, খুব না হলেও অল্প! তুই আছিস আজ, ওরা বলে, আমি নাকি একা একা কথা বলি। ডাক্তারগুলো খুব ডাকাত ভাই। খালি ট্রিটমেন্টের উপর ট্রিটমেন্ট, আমি এখন মুক্তি চাই। জানিস! জানিস ওরা না, ভালো মানুষকেও পাগল বানায়। এই যে আমাকে দেখ একদম সুস্থ! আচ্ছা! তুই বলতো আমি কি পাগল? ওরা মিছে মিছে আমাকে মারে, খেতে দেয় খুব কম। আমি নাকি রোজ রাতে গান গাই, আর বাঁধাই গন্ডগোল। হা হা হা গান গাইলেই,  গন্ডগোল হয় নাকি? সব দোষ তোর বাবার, অযথা এখানে দিয়ে গেল। সবগুলি পাগল বুঝলি, মেন্টাল আর কি! তোর বাবা আমার আপন কাকা হয়ে, কেমনে এটা পারলো? আপন মানুষ যদি পাগল কয় ডাক্তারদের কি বলব, ওরা তো পর! আমি আর পাগল নেই রে, তোদের আর নেই ভয়। তোকে আর মারবোনা কোনদিন, এই হাত বাড়িয়েছি ধর। পাগলা গারোদে আমার কেউ নেই, বড় একা হয়ে গিয়েছি রে ভাই! সারাদিন ডায়রীটা নিয়ে পড়ে থাকি, সুবন্যার দেয়া সেই ডায়রিটাই শুধু আছে। আমাকে নিয়ে যা! একি রে! চলে যাচ্ছিস যে বোকা! আচ্ছা যাচ্ছিস যা! সুবন্যাকে বলিস, তার দেওয়া ডায়রীর সব পৃষ্ঠাগুলো শেষ হয়ে গেছে। ...

আমার গ্রাম

Image
শহর থেকে খানিক দূ রে আমার গ্রামের আবাস, ছোট্ট বেলাতে ঐ গ্রামে ছিলো মোর নিবাস। গ্রামের পাশে স্কুল আছে আছে বাজার হাট, মাদ্রাসা পাশে আছে আছে মসজিদ মাঠ। খানিক দূরে নদী আছে আছে নৌকার পাল, মাঝখানেতে জমি আছে আছে চাষীর হাল। বাড়ির পাশে দাদার বাড়ি আরোও কাছে নানার বাড়ি, শৈশব আমার গাথা আছে অপূর্ব এ গ্রামের মাঝে। বর্ষাকালে আমার গ্রামে বন্যা আসতো ভেলা নিয়ে, ভেলায় চড়ে এ গ্রাম ও গ্রাম যেতাম বড়ো মজা করে। শীতের বেলায় বট তলাতে বসতো কতো রঙের মেলা, আমরা সবাই খেলা করে কাটিয়ে দিতাম নিদ্রাবেলা। পাঠশালাতে যাওয়ার বেলা সাথী নিয়ে যেতাম বিলে, আম বাগানের মাঝে বসে মার্বেল খেলতাম সবাই মিলে। প্রতি নবান্নে আমার গ্রামে পিঠা হতো সবার ঘরে, এসব পিঠা খেয়ে আমি তৃপ্ত হতাম প্রান ভরে। আমার দাদুর আম বাগানে হরেক রকম আমের ঘ্রাণে সকাল বিকাল আম কুড়াতাম ঝড়ো হাওয়া ব্যতী রেখে আমার গ্রামের মানুষগুলোর মন খুব উদার ও সরল, অনেক সময় শান্ত তারা যথা সময়ে হয় যে গরল। এমন গ্রামটি আর কোথাও পাবে না ভাই তুমি বিচিত্র এই গ্রামটি যে ভাই আমার জন্মভূমি।

ভিনদেশী কন্যা

Image
শীতের দিন, প্রতিদিনের মতোন আজও নিজের সকল কাজগুলো শেষ করিয়া বিছানায় মাথা দিলাম। একটু ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করিতেছি, বুঝতেই পারিতেছি কিন্তু কিছুতেই চোখে ঘুম মেলাইতে পারিলাম না। মাথায় কিসের যেনো চিন্তা-ভাবনা বারেবার চলিয়া আসিতেছে। হঠাতই মনে পড়িয়া গেলো ভিনদেশী এক কন্যার কথা। যার সাথে আমার কোনোদিনও কোনরকম দেখা হয়েছিলো না। অনেকদিন আগের কথা, তখন আমাকে চেনার কোনো উপায় ছিলো না। আমি ছিলাম আদিম যুগের একটা ছেলে। ছিলো না কোনো অহংকার, ছিলো না কোনো বিলাশীতা। নিজের কর্ম নিয়া আমি সদাই ব্যস্ত থাকিতাম। শহর থেকে অনেক দূরে নির্জনে থাকিতে খুব পছন্দ করিতাম। তাই তো, আমার খুব পছন্দের একটি জায়গা, হৃদয়পুর। যেখানে আমি বারবার ছুটে যাইতাম। আমি আমার নিজের কোনো প্রশংসা কিংবা বদনাম করিতেছি না। ইহা নেছক জানানোর জন্যেই। আমি ছিলাম সাদাসিধে একটি মানুষ। কথাই আছে, সাদাসিধে মানুষের আবার মনের মানুষ হয় নাকি? কথাটি সম্পূর্নই মিথ্যা। আমারও মনের মানুষ ছিলো, কিন্তু তাকে কোনোদিন দেখেছিলাম না। শুধুই কল্পনাতে তাকে দেখিতাম। তার সাথে আমার কল্পপ্রেম হয়েছিলো, প্রেয়সী তোমারে মোর মুক্ত মনো ঘরে, হৃদয় পিঞ্জরে বন্দি করেছি গোপনে। পর...