Posts

হাসি মুখ

Image
বনবন পাখা ঘোরে হাওয়া লাগে গায় জান্নাত বুড়ি দুধ-ভাত নিজ হাতে খায়। পাশে তার পোষা পুষি মিউ মিউ ডাকে এক মুঠো মাখা-ভাত খেতে দেয় তাকে। জান্নাত বুড়ি এতটুকু পা পা করে চলে কাঁপে দু'পা তবু যায় মা যে যেতে বলে। হাসিভরা মুখ তার ফিরে ফিরে চায় যেই ডাকে 'কাছে এসো' হেসে হেসে যায়।

আমি একটি পাগল

Image
গল্প শুনবি, আমার জীবনের গল্প পাঁচ বছর পর আমায় দেখতে এলি, ভালো  আছিরে, খুব না হলেও অল্প! তুই আছিস আজ, ওরা বলে, আমি নাকি একা একা কথা বলি। ডাক্তারগুলো খুব ডাকাত ভাই। খালি ট্রিটমেন্টের উপর ট্রিটমেন্ট, আমি এখন মুক্তি চাই। জানিস! জানিস ওরা না, ভালো মানুষকেও পাগল বানায়। এই যে আমাকে দেখ একদম সুস্থ! আচ্ছা! তুই বলতো আমি কি পাগল? ওরা মিছে মিছে আমাকে মারে, খেতে দেয় খুব কম। আমি নাকি রোজ রাতে গান গাই, আর বাঁধাই গন্ডগোল। হা হা হা গান গাইলেই,  গন্ডগোল হয় নাকি? সব দোষ তোর বাবার, অযথা এখানে দিয়ে গেল। সবগুলি পাগল বুঝলি, মেন্টাল আর কি! তোর বাবা আমার আপন কাকা হয়ে, কেমনে এটা পারলো? আপন মানুষ যদি পাগল কয় ডাক্তারদের কি বলব, ওরা তো পর! আমি আর পাগল নেই রে, তোদের আর নেই ভয়। তোকে আর মারবোনা কোনদিন, এই হাত বাড়িয়েছি ধর। পাগলা গারোদে আমার কেউ নেই, বড় একা হয়ে গিয়েছি রে ভাই! সারাদিন ডায়রীটা নিয়ে পড়ে থাকি, সুবন্যার দেয়া সেই ডায়রিটাই শুধু আছে। আমাকে নিয়ে যা! একি রে! চলে যাচ্ছিস যে বোকা! আচ্ছা যাচ্ছিস যা! সুবন্যাকে বলিস, তার দেওয়া ডায়রীর সব পৃষ্ঠাগুলো শেষ হয়ে গেছে। ...

আমার গ্রাম

Image
শহর থেকে খানিক দূ রে আমার গ্রামের আবাস, ছোট্ট বেলাতে ঐ গ্রামে ছিলো মোর নিবাস। গ্রামের পাশে স্কুল আছে আছে বাজার হাট, মাদ্রাসা পাশে আছে আছে মসজিদ মাঠ। খানিক দূরে নদী আছে আছে নৌকার পাল, মাঝখানেতে জমি আছে আছে চাষীর হাল। বাড়ির পাশে দাদার বাড়ি আরোও কাছে নানার বাড়ি, শৈশব আমার গাথা আছে অপূর্ব এ গ্রামের মাঝে। বর্ষাকালে আমার গ্রামে বন্যা আসতো ভেলা নিয়ে, ভেলায় চড়ে এ গ্রাম ও গ্রাম যেতাম বড়ো মজা করে। শীতের বেলায় বট তলাতে বসতো কতো রঙের মেলা, আমরা সবাই খেলা করে কাটিয়ে দিতাম নিদ্রাবেলা। পাঠশালাতে যাওয়ার বেলা সাথী নিয়ে যেতাম বিলে, আম বাগানের মাঝে বসে মার্বেল খেলতাম সবাই মিলে। প্রতি নবান্নে আমার গ্রামে পিঠা হতো সবার ঘরে, এসব পিঠা খেয়ে আমি তৃপ্ত হতাম প্রান ভরে। আমার দাদুর আম বাগানে হরেক রকম আমের ঘ্রাণে সকাল বিকাল আম কুড়াতাম ঝড়ো হাওয়া ব্যতী রেখে আমার গ্রামের মানুষগুলোর মন খুব উদার ও সরল, অনেক সময় শান্ত তারা যথা সময়ে হয় যে গরল। এমন গ্রামটি আর কোথাও পাবে না ভাই তুমি বিচিত্র এই গ্রামটি যে ভাই আমার জন্মভূমি।

ভিনদেশী কন্যা

Image
শীতের দিন, প্রতিদিনের মতোন আজও নিজের সকল কাজগুলো শেষ করিয়া বিছানায় মাথা দিলাম। একটু ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করিতেছি, বুঝতেই পারিতেছি কিন্তু কিছুতেই চোখে ঘুম মেলাইতে পারিলাম না। মাথায় কিসের যেনো চিন্তা-ভাবনা বারেবার চলিয়া আসিতেছে। হঠাতই মনে পড়িয়া গেলো ভিনদেশী এক কন্যার কথা। যার সাথে আমার কোনোদিনও কোনরকম দেখা হয়েছিলো না। অনেকদিন আগের কথা, তখন আমাকে চেনার কোনো উপায় ছিলো না। আমি ছিলাম আদিম যুগের একটা ছেলে। ছিলো না কোনো অহংকার, ছিলো না কোনো বিলাশীতা। নিজের কর্ম নিয়া আমি সদাই ব্যস্ত থাকিতাম। শহর থেকে অনেক দূরে নির্জনে থাকিতে খুব পছন্দ করিতাম। তাই তো, আমার খুব পছন্দের একটি জায়গা, হৃদয়পুর। যেখানে আমি বারবার ছুটে যাইতাম। আমি আমার নিজের কোনো প্রশংসা কিংবা বদনাম করিতেছি না। ইহা নেছক জানানোর জন্যেই। আমি ছিলাম সাদাসিধে একটি মানুষ। কথাই আছে, সাদাসিধে মানুষের আবার মনের মানুষ হয় নাকি? কথাটি সম্পূর্নই মিথ্যা। আমারও মনের মানুষ ছিলো, কিন্তু তাকে কোনোদিন দেখেছিলাম না। শুধুই কল্পনাতে তাকে দেখিতাম। তার সাথে আমার কল্পপ্রেম হয়েছিলো, প্রেয়সী তোমারে মোর মুক্ত মনো ঘরে, হৃদয় পিঞ্জরে বন্দি করেছি গোপনে। পর...

বিজয় পণ

Image
তরুণ প্রাণে গেয়ে গান জুড়াবো মোরা নিঃস্ব প্রাণ, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। দুষ্কর কার্য সিদ্ধি করবো আপন শক্তিতে চিরদিন লড়বো। বয়ে চলবো হৃদয় শক্তি- অহম ভেঙ্গে খর্ব করবো। বিবেকে স্থান পাবে না হিংসা দূরে ছুড়বো আপন লিপ্সা। সুখের ধরা মধূময় করবো- এটাই হবে তরুণ ইচ্ছা। তবেই ফুটে উঠবে যেন অবুঝ মনের তরুণ গান, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। বিজয়-দর্পণে হবই মহৎ থাকলে পরে অটুট সৎ। স্বার্থ হবেনা জীবন দিশারী ছুটাবো পথে সুখের রথ। দুঃখের গাহন দূর করবো শান্ত হৃদয়ে মোরা লড়বো। সকল অসারতা দূর করে চির শান্তি ফিরিয়ে আনবো। গল্প গানে সুখের সনে ফুটাবো ভূমে আপন ক্ষণ, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। সত্য পথে এগোবো মোরা করবো না’ক খুব ত্বরা। ফুলকি হয়ে জ্বালিয়ে দেব তিক্ত আধাঁরের পিছু যারা। মিথ্যে আশার মরণ হবে মরণ নেশা দূরে রবে। চলতে দেব না অত্যাচার আর তবেই ধরা সুখি হবে। ধরার মাঝে স্বপন ছড়াতে একলা একাই করবো পণ, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। আকাশ থেকে জোছনা ধরে সবার হৃদয়ে আনন্দ ভরে। মাখবো মোরা সুখের রং আমাদেরই কুড়...

আমি যাচ্ছি চলে

Image
'মা' আমি যাচ্ছি চলে অচেনা কোন এক গাঁয়, যে পথে হাটলে আর কেউ দোষ দিবেনা মোর ঘায়। রোজ গিয়ে খেলতাম আমি মোর গাঁয়ের এক মাঠে, তাই দেখে রোজ লোকেরা আমায় শাসাত গাঁয়ের হাঁটে। দুষ্টুমিতে ছিলাম পাকা ঘুরতাম আমি সারাবেলা, তাই দেখে গ্রামের সবাই করতো মোরে অবহেলা। বাবাকে গিয়ে বলে সবাই কি করে তোর ছোট ছেলে, সারাদিন দেখি ঘুরে বেড়ায় ফরাজি বাড়ির বড় ঝিলে। কাজ নেই তবুও দোষ কি তাহার? সময় তো তার যায় রসের, ঘূরে বেড়াতে এমন কিছুই দেখি নাতো তার দোষের। সবাই বলে তাড়াতারি তুই এই গ্রামটা ছাড়, নাহলে একদিন ভেঙে দেবো তোর হাত-পা কিংবা মস্ত ঘাড়। কারন আমি বেকার ছিলাম ইন্টার ডিগ্রি শেষ, চাকরি নাই তাই বসে খাচ্ছি তবুও অতিষ্ট আজ দেশ। অবজ্ঞার চোখে দেখতে সবাই কারন আমি ছিলাম বেকার, আমার মতো শিক্ষিত যারা তারা কি শান্তিতে ছিলো আর! তাই একদিন ঘুম থেকে আমি উঠলাম খুব সকালে, মাকে ডেকে বললাম 'মা' আমি যাচ্ছি চলে!

হৃদয়পুর হাইস্কুল

Image
একদিন আমি শুধু আসি নাই পড়ে স্কুল ইউনিফর্ম, গার্ড বলে কি না আজকে নাকি মেজাজ স্যারের চরম। শার্টটা বেহায় নোংরা হয়েছিলো তাই, ধুয়ে দিছি গতকাল। শুকায়নি বলে আসি নাই পড়ে তাই, বের করে দেবে প্রিন্সিপাল? শাসিয়ে বলে গল্প শোনাও, এযুগে কারও এক শার্ট থাকে নাকি? হাসালেন জনাব, কোচিং এ এখনও তিন মাসের বেতন বাকি। পেটে ভাত নেই, ফুটানি দেখ প্রাইভেট পড়িস্ ব্যাটা! না হলে শুধু ক্লাসের ভরসায় চুকে যাবে যে ল্যাটা। ক্লাসে স্যারেরা পড়াতে আসে নাকি? দিতে আসে কোচিংয়ের বিজ্ঞাপন তাওবা, আমি দোষ দিবো কাকে? কতই বা পাই বেতন! যা পায় তা চলে যায় দিতে খরচ আর বর্ধিত বাসা ভাড়া, চলবে কিভাবে সারা মাস? প্রাইভেট খোর ছাত্র ছাড়া। এই যদি হয় স্কুলের দশা তবে আমি বলি কি স্যার, স্কুলের নামটা বদলে রাখেন না, পাঠ্যজ্ঞানের বাজার। দরদাম করে পাঁচটা বছর খেঁটে কিনে নেবো সার্টিফিকেট, পন্যের মান বেড়ে যাবে তার কিনবে যে দামী টিকেট। স্যার চুপ করে কিবোর্ড চেপে কি জানি একটা লিখলো? প্রিন্টার দিয়ে পরে ছেপে নিয়ে টিসিটা আমায় ধরিয়ে দিলো। বলে হেসে দিয়ে, যাও বাবা যাও! এতো জ্ঞানী হলে পরে, স্কুলে রেখে লাভ হবে নাকো কিই ...

চলো---স্বপ্ন দেখি

Image
স্বপ্ন দেখতে কে না ভালবাসে। সেই ছোট্ট বেলা হতেই আমরা অনেক স্বপ্ন দেখে আসছি। কিন্তু, কোন স্বপ্নকেই আমরা অনেকে বাস্তবতায় রূপ দিতে পারি নাই। ছোট্ট বেলায় এমন হয়েছে, ঘুমিয়ে পড়েছি- স্বপ্নে দেখি বালিশের নীচে অনেক টাকা, কিন্তু ঘুম ভাঙতেই হাত দিয়ে দেখি, কোন টাকা নেই-মনটা বড়ই খারাপ। আসলে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলে আমরা আমাদের কাঙ্খিত জিনিস কখনোই পাবো না। বিখ্যাত ব্যক্তিগণ তাই স্বপ্ন নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। যে স্বপ্ন মানুষকে ঘুমোতে দেয় না, প্রকৃতই তা আমাদের কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছতে সহযোগিতা করে। ছোট্ট বেলায়, সন্ধ্যায় আমরা অনেকেই আকাশের দিকে তাকিয়ে অন্ধকারে তাঁরা গুনেছি, মনে হয়েছে-যদি তাঁরাগুলো ছুঁইতে পারতাম, কিন্তু পারি নাই। এখন আমরা বুঝতে পারি কেন ছুঁতে পারি নাই। কারণ আমরা তখন যা অনুভব করেছি, তা হলো আমাদের অবুঝ কল্পনা। কিন্তু এখন আমরা বুঝমান। আমাদের জীবনটাকে আমরা পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারি।আমাদের স্বপ্ন গুলোকে সাঁজাতে পারি। স্বপ্নের সাথে তাল মিলিয়ে  ঠিক যেভাবে চাই, নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে পারি। তবুও কেন জানি  আমরা স্বপ্ন পূরণে হতাশ হয়ে যাই। এ হতাশার জন্য অনেকে স্বপ্ন দেখতে চাই না। যারা স্বপ...

অস্তিত্ব

Image
তোমার আধার ভাঙা ভোর, স্নিগ্ধ পাখির কলতান, আমার অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দ, সোনায় জেগে ওঠার গান || তোমার প্রাতরাশ পরিপাটি, গোছানো অফিস এর সমান, আমার জিভ পোড়ানো চায়ে, হাজির পাঁচ মিনিট এর সান || আমার লোকাল ট্রেন এর সফর, তোমার অফিস গাড়ির হর্ন, আমার টিফিন ব্রেক এ পাউরুটি, তোমার কফি আর পপকর্ন || তোমার কাজের ফাঁকে আড্ডা , আর ল্যাপটপ এর নীল আলো, আমার ফিরতি পথে বাজার, চোখে ক্লান্তি এলোমেলো || তোমার টিভির রিমোর্ট হাতে, অলস সন্ধেবেলা আসে, আমার রান্না ঘরের বাসন, টুং টাং শব্দ তুলে হাসে || আমার হাতে কমপ্লান এর কাপ, মেয়ের হোমওয়ার্ক এর খাতা, তুমি ব্যাস্ত সেলফোনে, সোফায় এলিয়ে দিয়ে মাথা || তোমার রাত নটার ডিনার, টান টান বিছানার চাদর, আমার সবজি রাখা প্লেটে, ঠান্ডা রুটির আদর || তোমার নিঝুম রাতের তারা, স্বপ্ন সুখদিয়ে সাজানো, আমার ভাবনা দিশে হারায় , অসীম রাত জাগানো || আমার ব্যাস্ত সারাদিনের , এমন রুদ্ধ করে দ্বার, বুঝি সাজাই জীবনটাকে, নতুন করে আবার || আমার বন্ধ চোখের পাতা, মনের জানলা হাট খোলা, গোপন ইচ্ছে গুলোর সাথে, আমার আপন মনে চলা || এখন নেইকো কোনো বাঁধন, আর নে...