Posts

রাত ৩টা বেজে ৪৫ মিনিট

Image
মোঃ শহীদ হোসেন হৃদয়:-  হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো, ডিপ লাইটের আলোয় আবসা দেখা যাচ্ছে না। প্রথমে জানালাটা বন্ধ করে দিলো। ঘড়িতে কয়টা বাজে ভাল করে দেখা যাচ্ছে না তাই লাইট জ্বালিয়ে দেখলো রাসেল, রাত ০৩ টা ৫৫ মিনিট। আজ রাসেল একা বাসায়। বাসার সবাই গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছে। রাসেল এবার এস,এস,সি দেবে ঢাকা কলেজ থেকে। লেখাপড়ার চাপ তাই গ্রামের বাড়ীতে যাওয়া হয়নি। আজ রাত ১ টায় বই এর পাতায় থেকে চোখ সরিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো। রান্না ঘরে গিয়ে পানি পান করলো।বাথরুম সেরে আবার ঘুমাতে যাবে, তখনই খেয়াল করলো তার ছাদের ফ্যানে কলেজ বন্ধু রাহুল ঝুলতেছে গলায় ফাঁস লাগানো। রাসেল বসে পড়লো এই কি হলো রাহুল এখানে আর ফাঁস কেন লাগালো? কখন লাগালো বা কেন লাগালো? এই সব ভাবার সময়ও যেন পাচ্ছে না,  কি করবে ভাবতে পারছেনা। রাহুলের পা ধরে উপরের দিকে ধরে রাখার চেষ্টা করতেছে, আর চিৎকার করতে লাগলো বাসায় কেউ নেই তাই তার শব্দ কেউ শুনতে পারছে না। গলা শুকিয়ে গেছে। অনুভব করলো রাহুল আর বেঁচে নেই। বাসায় একা সে,  কি করবে!  কোনো রকমে চেয়ারের উপর উঠে রাহুলের গলা থেকে রশিটা খুলতেই রাহুল নিচে পরে গেলো। রাসেল পাশে বসে দেখতেছ...

শুভ জন্মদিন সুবন্যা

Image
ভোরের আলোয় দেখছো তুমি নতুন এক সকাল, একরাশ সাদা গোলাপের শুভেচ্ছা রবে ভালবাসা চিরকাল। মনে কর উনিশ বছর পূর্বে, ছিলে তুমি মাতৃগর্ভে। রক্ত-মাংস আহার করে, ভূমিষ্ঠ হলে এই মর্তে। আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা, সবুজ-শ্যামলে কিছু স্বপ্ন বোনা। পাখির কন্ঠে হাজার সুরের মেলা, আগমন তোমার ভাসিয়ে সুখের ভেলা। এসেছিলে তুমি সেদিন,ব্যস্ত এই ভূবনে, জীবনের শুরুটাও করেছিলে এ দিনে। সেই থেকে আজও চলেছো যুগের তালে, সর্বদা থাকো তুমি সু-খেয়ালে। জীবনের ডায়রীতে কিছু রেখ তুলে, সেদিনের কিছু কথা গেলাম আমি বলে। ভুলবশত, ভুলবো না কোনোদিন, সুবন্যা, আজ তোমার শুভ জন্মদিন। [ কবিতাটি আমার প্রিয়তম সুবন্যাকে উৎসর্গ করে লেখা। তার জন্ম তারিখ ২৫/০৪/১৯৯৯]

বৈশাখী রঙ

Image
হে বৈশাখ আবার তুমি ফিরে এলে, অনেক সে প্রতীক্ষার পর। পুরাতন বছরের স্মৃতিগুলো ফেলে, কি দেবে এবার মনোহর ? বৈশাখী রঙের কত না শাড়ীর ভিড়ে, বাজছে কত কাঁচের চুড়ি; কৃষ্ণচূড়া লালে চারিদিক শুধু লাল, সর্বত্র উল্লাসে গেছে ভরি।   নাচে গায় বৈশাখী রঙে পরীর দল, হাতে বৈশাখীর ফুল ঢালা; ভুবন মাতানো সুরে নাচে ধরাতল, তোমার গলায় পড়াবে মালা। সকলের মনে আজ যে দারুণ হর্ষ, শুভ হোক নতুন বছর; পৃথিবীর কোন প্রাণ,না হোক বিমর্ষ, সুখী হতে প্রতিটা প্রহর। বাংলার গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে, হচ্ছে আজ বৈশাখী মেলা; লাখো মানুষের ঢল,শুধু চোখে পড়ে, নাচ গান আর কত শিল্প কলা। মেলাতে মিলে কচিদের কত খেলনা, রঙিন তালের হাত পাখা; গ্রাম বাংলার নানা মিষ্টান্ন কত না, হয় কোলাকুলি স্নেহ মাখা। পাগলা বাতাসের দোলায় চারিদিক, আনন্দ প্লাবণে যায় ভাসি; ইলিশ আর পান্তা খাওয়ার হিড়িক, মুখে সবার অঢেল হাসি। হে বৈশাখ,দিয়ো না আজ ঝড়ের হাঁক, ঢেলে দাও সর্বত্র প্রেম; মৃদু হাসিতে দুষ্টুমি মাখা দুটো আঁখি, তুমিই প্রিয়, তুমি সর্বোত্তম।

রুপসী সুবন্যা

Image
হাজার রমনীর ভিড়ে, তুমি এক অনন্যা। শত সুন্দরীর ভিড়ে তুমি রূপসী হে সুবন্যা। তোমার মুখ ভার হলে, আকাশে জমে মেঘ। তোমার চোখে জল এলে, ঝড়ে পরে আবেগ। সূর্য ভুলে যায় তেজ, দেখে তোমার হাসি। রৌদ্র হয়ে যায় মলিন, যখন থাকো খুশি। স্বপ্ন বুনে যায় চাঁদ, তোমার টানা চোখে। ভালোবাসা মায়ার ফাঁদ , পাগল করা মুখে। ভালোলাগা আছে যত, ঠোটের বাঁকে দোলে। পৃথিবী থমকে যায়, গোমড়া তুমি হলে।

অভিশপ্ত ভালোবাসা

Image
আজ ৩ দিন হয়ে গেল সুবন্যার সাথে ডিভোর্স হয়েছে হৃদয়ের। কোন যোগাযোগ নেই একজনের সাথে আরেকজনের। দুই জন দুই দিকে। অথচ এই দুই জনই এক সময় উত্তল সঙ্গমে কাটিয়েছে কতশত রাত। ৫ বছর এক সাথে থাকার পর কি যেন মনে হলো, সুবন্যা হৃদয়কে ছেড়ে চলে যায়। প্রেম করে বিয়ে করেছিলো হৃদয় আর সুবন্যা। শপথ করেছিলো এক সাথে থাকবে দুজন সারাজীবন। এক মেলায় প্রথম দেখে হৃদয় সুবন্যাকে। হৃদয় ঢাকা থেকে গ্রামে আসে ছুটিতে। দেখে ভালোলাগে সুবন্যাকে হৃদয়ের। তারপর  হৃদয় সুবন্যাকে প্রোপোজ করে। গ্রামের মেয়ে সুবন্যা। প্রোপোজে সুবন্যাা রাজি হয়। হৃদয় একটা দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতো। আর সুবন্যাা ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়তো। ওদের ফ্যামিলি অবস্থাও সুবিধার ছিলোনা। তাই সুবন্যার সাথে হৃদয়েরর বিয়ে দিয়ে দেয় সুবন্যার বাবা-মা। দুই জনে একটা ছোট বাসা নিয়ে থাকতে শুরু করে ঢাকা শহরে। ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিলো সুবন্যা ডাক্তার হবে। আর হৃদয়ও সুবন্যাকে অনেক ভালোবাসতো তাই হৃদয় সুবন্যাকে নিজে কষ্ট করে হলেও পড়াতে থাকে। ইন্টারে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছিলো সুবন্যা। হৃদয় সুবন্যাকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে দেয় Hsc তে ভালো রেজাল্ট করার জন্য। ভালো রেজাল্ট করত...

ভালোবাসা মানে

Image
ভালবাসা মানে দুটি হৃদয়ের ব্যকুলতা, ভালবাসা মানে প্রতি মূহুর্তের অস্থিরতা। ভালবাসা মানে কাছে পাবার বাসনা, ভালবাসা মানে বুকে জমাট বাধা বেদনা। ভালবাসা মানে পরকে আপন করে নেয়া, ভালবাসা মানে আপনকে পর করে দেয়া। ভালবাসা মানে কিছু লোকের ধিক্কার, ভালবাসা মানে নতুন জীবনের অঙ্গীকার। ভালবাসা মানে নয়নের বারিধারা, ভালবাসা মানে মাঝে মাঝে দিশাহারা। ভালবাসা মানে রাত জেগে জেগে থাকা, ভালবাসা মানে মনে কষ্ট জমা রাখা। ভালবাসা মানে সংসার করিবার অভিলাষ, ভালবাসা মানে ভবিষ্যৎ জীবনের প্রবাস। ভালবাসা মানে সময়ের মূল্য ভুলে যাওয়া ভালবাসা মানে অধির আগ্রহে পথ চাওয়া। ভালবাসা মানে জেগে ওঠা নতুন প্রাণ, ভালবাসা মানে মধুর কণ্ঠে গাওয়া গান। ভালবাসা মানে সবকিছু তুচ্ছ করা, ভালবাসা মানে একাকী জীবন গড়া। ভালবাসা মানে ছল করে দেখা এক চাহনী, ভালবাসা মানে শ্রদ্ধাবোধের আগমনী। ভালবাসা মানে রক্ত দিয়ে লেখা কোন নাম, ভালবাসা মানে অন্ধ ভাবে করা প্রনাম। ভালবাসা মানে গৃহ ত্যাগে ছুটে চলা, ভালবাসা মানে বিরতিহীন কথা বলা। ভালবাসা মানে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়া, ভালবাসা মানে জীবনকে বিসর্জন দেয়া। ভালবাসা মানে নতুন নত...

এবার জয় হবেই

Image
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ্য পুরুষ একবার সহবাসে যে পরিমান বির্য নির্গত করে তাতে ২০-৩০ কোটি স্পার্ম নির্গত হয়,( স্থান পেলে ২০-৩০ কোটি বাচ্চা তৈরি  হতো) এই ২০-৩০ কোটি স্পার্ম, মায়ের ওভামের দিকে পাগলের মত ছুটতে ছুটতে পৌঁছায় ৩০০-৫০০ মাত্র, আর বাকিরা এই "ছুটে চলার" দৌড়ে ক্লান্ত, শ্রান্ত অথবা পরাজিত হয়ে মারা যায়, বিলীন হয়ে যায়। এই ৩০০-৫০০ স্পার্ম, যেগুলো ডিম্বানুর কাছে যেতে পেরেছে তাদের মধ্যে মাত্র একটি,মহা শক্তিশালী স্পার্ম ডিম্বানুকে ফার্টিলাইজ করে অথবা ডিম্বানুতে আসন গ্রহন করে, সেই ভাগ্যবান স্পার্মটি হচ্ছেন আপনি কিংবা আমি-অথবা আমরা সবাই কখনও কি এই মহাযুদ্ধের কথা মাথায় এনেছেন? আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার চোখ,হাত পা মাথা ছিল না! তবু আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার কোন সার্টিফিকেট ছিল না! মস্তিষ্ক ছিল না, তবুও আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার কোন শিক্ষা ছিল না, দৌড়েছিলেন কারও সাহায্য ছাড়া, শুধু ছিলেন মহান আল্লাহতালা এবং আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়ছিলেন, যখন আপনার একটি গন্তব্য ছিল এবং সেই গন্তব্যের দিকে উদ্দেশ্য ঠিক রেখে একা একাগ্র ...

হাসি মুখ

Image
বনবন পাখা ঘোরে হাওয়া লাগে গায় জান্নাত বুড়ি দুধ-ভাত নিজ হাতে খায়। পাশে তার পোষা পুষি মিউ মিউ ডাকে এক মুঠো মাখা-ভাত খেতে দেয় তাকে। জান্নাত বুড়ি এতটুকু পা পা করে চলে কাঁপে দু'পা তবু যায় মা যে যেতে বলে। হাসিভরা মুখ তার ফিরে ফিরে চায় যেই ডাকে 'কাছে এসো' হেসে হেসে যায়।

আমি একটি পাগল

Image
গল্প শুনবি, আমার জীবনের গল্প পাঁচ বছর পর আমায় দেখতে এলি, ভালো  আছিরে, খুব না হলেও অল্প! তুই আছিস আজ, ওরা বলে, আমি নাকি একা একা কথা বলি। ডাক্তারগুলো খুব ডাকাত ভাই। খালি ট্রিটমেন্টের উপর ট্রিটমেন্ট, আমি এখন মুক্তি চাই। জানিস! জানিস ওরা না, ভালো মানুষকেও পাগল বানায়। এই যে আমাকে দেখ একদম সুস্থ! আচ্ছা! তুই বলতো আমি কি পাগল? ওরা মিছে মিছে আমাকে মারে, খেতে দেয় খুব কম। আমি নাকি রোজ রাতে গান গাই, আর বাঁধাই গন্ডগোল। হা হা হা গান গাইলেই,  গন্ডগোল হয় নাকি? সব দোষ তোর বাবার, অযথা এখানে দিয়ে গেল। সবগুলি পাগল বুঝলি, মেন্টাল আর কি! তোর বাবা আমার আপন কাকা হয়ে, কেমনে এটা পারলো? আপন মানুষ যদি পাগল কয় ডাক্তারদের কি বলব, ওরা তো পর! আমি আর পাগল নেই রে, তোদের আর নেই ভয়। তোকে আর মারবোনা কোনদিন, এই হাত বাড়িয়েছি ধর। পাগলা গারোদে আমার কেউ নেই, বড় একা হয়ে গিয়েছি রে ভাই! সারাদিন ডায়রীটা নিয়ে পড়ে থাকি, সুবন্যার দেয়া সেই ডায়রিটাই শুধু আছে। আমাকে নিয়ে যা! একি রে! চলে যাচ্ছিস যে বোকা! আচ্ছা যাচ্ছিস যা! সুবন্যাকে বলিস, তার দেওয়া ডায়রীর সব পৃষ্ঠাগুলো শেষ হয়ে গেছে। ...

আমার গ্রাম

Image
শহর থেকে খানিক দূ রে আমার গ্রামের আবাস, ছোট্ট বেলাতে ঐ গ্রামে ছিলো মোর নিবাস। গ্রামের পাশে স্কুল আছে আছে বাজার হাট, মাদ্রাসা পাশে আছে আছে মসজিদ মাঠ। খানিক দূরে নদী আছে আছে নৌকার পাল, মাঝখানেতে জমি আছে আছে চাষীর হাল। বাড়ির পাশে দাদার বাড়ি আরোও কাছে নানার বাড়ি, শৈশব আমার গাথা আছে অপূর্ব এ গ্রামের মাঝে। বর্ষাকালে আমার গ্রামে বন্যা আসতো ভেলা নিয়ে, ভেলায় চড়ে এ গ্রাম ও গ্রাম যেতাম বড়ো মজা করে। শীতের বেলায় বট তলাতে বসতো কতো রঙের মেলা, আমরা সবাই খেলা করে কাটিয়ে দিতাম নিদ্রাবেলা। পাঠশালাতে যাওয়ার বেলা সাথী নিয়ে যেতাম বিলে, আম বাগানের মাঝে বসে মার্বেল খেলতাম সবাই মিলে। প্রতি নবান্নে আমার গ্রামে পিঠা হতো সবার ঘরে, এসব পিঠা খেয়ে আমি তৃপ্ত হতাম প্রান ভরে। আমার দাদুর আম বাগানে হরেক রকম আমের ঘ্রাণে সকাল বিকাল আম কুড়াতাম ঝড়ো হাওয়া ব্যতী রেখে আমার গ্রামের মানুষগুলোর মন খুব উদার ও সরল, অনেক সময় শান্ত তারা যথা সময়ে হয় যে গরল। এমন গ্রামটি আর কোথাও পাবে না ভাই তুমি বিচিত্র এই গ্রামটি যে ভাই আমার জন্মভূমি।