Posts

পুতুলের বিয়ে

Image
  মোঃ শহীদ হোসেন হৃদয় জান্নাত বুড়ির পুতুলের বিয়ে, তাই, বুড়ির নেইতো ঘুম! বুড়ির ঘরে বাজে ঢোল, টাক ডুম টাক ডুম। আজ পুতুলের গায়ে হলুদ, কাল পুতুলের বিয়ে। বুড়ির পুতুল নিয়ে যাবে, টোপর মাথায় দিয়ে। খাওয়া হলো, দাওয়া হলো, সবাই বললো চল! সখের পুতুল যাবে চলে, বুড়ির চোখে জল। মনটা তার বড়ই খারাপ, শূন্য বুড়ির ঘর। পুতুলকে কি রাখবে সুখে, পুতুলের প্রিয় বর? দিন যে বুড়ির আর কাটেনা, একলা প্রহর গুনে। অনেকদিন হয় নি কথা, প্রিয় পুতুলের সনে।

বুড়ি

Image
মোঃ শহীদ হোসেন হৃদয়ঃ- বুড়ি তোমার নাম কি বলো, কোথায় তোমার বাসা? কোথায় তোমার বাচ্চা গুলো, রং বে-রঙ্গে ঠাঁসা। কোথায় তুমি হাসো, নাচো কোথায় তুমি গাও? কোন দেশেতে স্বপ্ন আঁকো কোথায় তোমার গাঁও। যাবে তুমি আমায় নিয়ে তোমার সোনার দেশে। তোমার ছোট বাচ্চা গুলো দেখবো হেসে হেসে। মন্ডা মিঠাই নিয়ে যাবো আরোও কত কি! চাইলে তোমায় আরও দেবো মিষ্টি স্বাদের ঘি! হাসবো আমি, নাচবো গেয়ে বুড্ডা বুড়ির সাথে, সবাই মিলে ঘুম পাড়াবো চাঁদনী ধোয়া রাতে।

অনন্যাদের জীবন

Image
মোঃ শহীদ হোসেন হৃদয়ঃ- বাসটা টার্মিনালে পৌঁছানোর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হলো। অসময়ে বৃষ্টি সঙ্গে ছাতাও নেই। সঙ্গে ছাতা নেবার মানুষ আমি না। ব্যাগটা মাথার উপর দিয়ে মাথা বাঁচিয়ে কোনো ভাবে বাস টার্মিনালে ঢুকবো, সাথে সাথে দেবদূতের মত এক রিক্সা এসে হাজির। কাটায়খানা যাবে? যাবো ৩০টাকা লাগবে। আমিও কোনো কথা না পেঁচিয়ে সোজা উঠে পরলাম। আমি অবশ্য রিক্সাওয়ালাদের সাথে কৌতুক না করে উঠি না। এবার বৃষ্টি নিয়ম বদলালো। একবার কি হলো আমি মজমপুর থেকে সরকারি কলেজ এ যাবো বেশকিছু রিক্সা আমায় ডেকে বলে কই যাবেন মামা। আমিও ঠিকানা বলি ভাড়া জিজ্ঞাস করি। কেউ বলে ৩০টাকা, কেউ চাইলো ২৫টাকা, কেউ বলে ২০টাকা। আমি ২০টাকার জনকে নিয়ে গন্তব্যে পৌছাই। আর তাকে সর্বোচ্চ ভাড়াটা ৩০টাকা দেই। এতে সে খুশি হয়ে মনখোলা দোয়া করে দেয়। বড় আন্টির বাড়িতে বিশেষ কারণে নিমন্ত্রণ। দুই ছেলে তার। নানান কাজে ব্যস্ত থাকে। শহরের বাহিরে থাকে। আঙ্কেল হাঁপানী রুগী। সামান্য ঠান্ডায় হাসপাতালে ছুটতে হয়। অতএব পাহারা দেবে কে? বাড়ির ব্যাচেলর ছেলে। তাই পাহারাদারি আমাকেই করতে হবে। বাসে ১ ঘন্টার পথ। রাস্তা প্রচন্ড ভাঙার কারনে ২ ঘন্টা লাগল...

রাত ৩টা বেজে ৪৫ মিনিট

Image
মোঃ শহীদ হোসেন হৃদয়:-  হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো, ডিপ লাইটের আলোয় আবসা দেখা যাচ্ছে না। প্রথমে জানালাটা বন্ধ করে দিলো। ঘড়িতে কয়টা বাজে ভাল করে দেখা যাচ্ছে না তাই লাইট জ্বালিয়ে দেখলো রাসেল, রাত ০৩ টা ৫৫ মিনিট। আজ রাসেল একা বাসায়। বাসার সবাই গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছে। রাসেল এবার এস,এস,সি দেবে ঢাকা কলেজ থেকে। লেখাপড়ার চাপ তাই গ্রামের বাড়ীতে যাওয়া হয়নি। আজ রাত ১ টায় বই এর পাতায় থেকে চোখ সরিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো। রান্না ঘরে গিয়ে পানি পান করলো।বাথরুম সেরে আবার ঘুমাতে যাবে, তখনই খেয়াল করলো তার ছাদের ফ্যানে কলেজ বন্ধু রাহুল ঝুলতেছে গলায় ফাঁস লাগানো। রাসেল বসে পড়লো এই কি হলো রাহুল এখানে আর ফাঁস কেন লাগালো? কখন লাগালো বা কেন লাগালো? এই সব ভাবার সময়ও যেন পাচ্ছে না,  কি করবে ভাবতে পারছেনা। রাহুলের পা ধরে উপরের দিকে ধরে রাখার চেষ্টা করতেছে, আর চিৎকার করতে লাগলো বাসায় কেউ নেই তাই তার শব্দ কেউ শুনতে পারছে না। গলা শুকিয়ে গেছে। অনুভব করলো রাহুল আর বেঁচে নেই। বাসায় একা সে,  কি করবে!  কোনো রকমে চেয়ারের উপর উঠে রাহুলের গলা থেকে রশিটা খুলতেই রাহুল নিচে পরে গেলো। রাসেল পাশে বসে দেখতেছ...

শুভ জন্মদিন সুবন্যা

Image
ভোরের আলোয় দেখছো তুমি নতুন এক সকাল, একরাশ সাদা গোলাপের শুভেচ্ছা রবে ভালবাসা চিরকাল। মনে কর উনিশ বছর পূর্বে, ছিলে তুমি মাতৃগর্ভে। রক্ত-মাংস আহার করে, ভূমিষ্ঠ হলে এই মর্তে। আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা, সবুজ-শ্যামলে কিছু স্বপ্ন বোনা। পাখির কন্ঠে হাজার সুরের মেলা, আগমন তোমার ভাসিয়ে সুখের ভেলা। এসেছিলে তুমি সেদিন,ব্যস্ত এই ভূবনে, জীবনের শুরুটাও করেছিলে এ দিনে। সেই থেকে আজও চলেছো যুগের তালে, সর্বদা থাকো তুমি সু-খেয়ালে। জীবনের ডায়রীতে কিছু রেখ তুলে, সেদিনের কিছু কথা গেলাম আমি বলে। ভুলবশত, ভুলবো না কোনোদিন, সুবন্যা, আজ তোমার শুভ জন্মদিন। [ কবিতাটি আমার প্রিয়তম সুবন্যাকে উৎসর্গ করে লেখা। তার জন্ম তারিখ ২৫/০৪/১৯৯৯]

বৈশাখী রঙ

Image
হে বৈশাখ আবার তুমি ফিরে এলে, অনেক সে প্রতীক্ষার পর। পুরাতন বছরের স্মৃতিগুলো ফেলে, কি দেবে এবার মনোহর ? বৈশাখী রঙের কত না শাড়ীর ভিড়ে, বাজছে কত কাঁচের চুড়ি; কৃষ্ণচূড়া লালে চারিদিক শুধু লাল, সর্বত্র উল্লাসে গেছে ভরি।   নাচে গায় বৈশাখী রঙে পরীর দল, হাতে বৈশাখীর ফুল ঢালা; ভুবন মাতানো সুরে নাচে ধরাতল, তোমার গলায় পড়াবে মালা। সকলের মনে আজ যে দারুণ হর্ষ, শুভ হোক নতুন বছর; পৃথিবীর কোন প্রাণ,না হোক বিমর্ষ, সুখী হতে প্রতিটা প্রহর। বাংলার গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে, হচ্ছে আজ বৈশাখী মেলা; লাখো মানুষের ঢল,শুধু চোখে পড়ে, নাচ গান আর কত শিল্প কলা। মেলাতে মিলে কচিদের কত খেলনা, রঙিন তালের হাত পাখা; গ্রাম বাংলার নানা মিষ্টান্ন কত না, হয় কোলাকুলি স্নেহ মাখা। পাগলা বাতাসের দোলায় চারিদিক, আনন্দ প্লাবণে যায় ভাসি; ইলিশ আর পান্তা খাওয়ার হিড়িক, মুখে সবার অঢেল হাসি। হে বৈশাখ,দিয়ো না আজ ঝড়ের হাঁক, ঢেলে দাও সর্বত্র প্রেম; মৃদু হাসিতে দুষ্টুমি মাখা দুটো আঁখি, তুমিই প্রিয়, তুমি সর্বোত্তম।

রুপসী সুবন্যা

Image
হাজার রমনীর ভিড়ে, তুমি এক অনন্যা। শত সুন্দরীর ভিড়ে তুমি রূপসী হে সুবন্যা। তোমার মুখ ভার হলে, আকাশে জমে মেঘ। তোমার চোখে জল এলে, ঝড়ে পরে আবেগ। সূর্য ভুলে যায় তেজ, দেখে তোমার হাসি। রৌদ্র হয়ে যায় মলিন, যখন থাকো খুশি। স্বপ্ন বুনে যায় চাঁদ, তোমার টানা চোখে। ভালোবাসা মায়ার ফাঁদ , পাগল করা মুখে। ভালোলাগা আছে যত, ঠোটের বাঁকে দোলে। পৃথিবী থমকে যায়, গোমড়া তুমি হলে।

অভিশপ্ত ভালোবাসা

Image
আজ ৩ দিন হয়ে গেল সুবন্যার সাথে ডিভোর্স হয়েছে হৃদয়ের। কোন যোগাযোগ নেই একজনের সাথে আরেকজনের। দুই জন দুই দিকে। অথচ এই দুই জনই এক সময় উত্তল সঙ্গমে কাটিয়েছে কতশত রাত। ৫ বছর এক সাথে থাকার পর কি যেন মনে হলো, সুবন্যা হৃদয়কে ছেড়ে চলে যায়। প্রেম করে বিয়ে করেছিলো হৃদয় আর সুবন্যা। শপথ করেছিলো এক সাথে থাকবে দুজন সারাজীবন। এক মেলায় প্রথম দেখে হৃদয় সুবন্যাকে। হৃদয় ঢাকা থেকে গ্রামে আসে ছুটিতে। দেখে ভালোলাগে সুবন্যাকে হৃদয়ের। তারপর  হৃদয় সুবন্যাকে প্রোপোজ করে। গ্রামের মেয়ে সুবন্যা। প্রোপোজে সুবন্যাা রাজি হয়। হৃদয় একটা দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতো। আর সুবন্যাা ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়তো। ওদের ফ্যামিলি অবস্থাও সুবিধার ছিলোনা। তাই সুবন্যার সাথে হৃদয়েরর বিয়ে দিয়ে দেয় সুবন্যার বাবা-মা। দুই জনে একটা ছোট বাসা নিয়ে থাকতে শুরু করে ঢাকা শহরে। ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিলো সুবন্যা ডাক্তার হবে। আর হৃদয়ও সুবন্যাকে অনেক ভালোবাসতো তাই হৃদয় সুবন্যাকে নিজে কষ্ট করে হলেও পড়াতে থাকে। ইন্টারে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছিলো সুবন্যা। হৃদয় সুবন্যাকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে দেয় Hsc তে ভালো রেজাল্ট করার জন্য। ভালো রেজাল্ট করত...

ভালোবাসা মানে

Image
ভালবাসা মানে দুটি হৃদয়ের ব্যকুলতা, ভালবাসা মানে প্রতি মূহুর্তের অস্থিরতা। ভালবাসা মানে কাছে পাবার বাসনা, ভালবাসা মানে বুকে জমাট বাধা বেদনা। ভালবাসা মানে পরকে আপন করে নেয়া, ভালবাসা মানে আপনকে পর করে দেয়া। ভালবাসা মানে কিছু লোকের ধিক্কার, ভালবাসা মানে নতুন জীবনের অঙ্গীকার। ভালবাসা মানে নয়নের বারিধারা, ভালবাসা মানে মাঝে মাঝে দিশাহারা। ভালবাসা মানে রাত জেগে জেগে থাকা, ভালবাসা মানে মনে কষ্ট জমা রাখা। ভালবাসা মানে সংসার করিবার অভিলাষ, ভালবাসা মানে ভবিষ্যৎ জীবনের প্রবাস। ভালবাসা মানে সময়ের মূল্য ভুলে যাওয়া ভালবাসা মানে অধির আগ্রহে পথ চাওয়া। ভালবাসা মানে জেগে ওঠা নতুন প্রাণ, ভালবাসা মানে মধুর কণ্ঠে গাওয়া গান। ভালবাসা মানে সবকিছু তুচ্ছ করা, ভালবাসা মানে একাকী জীবন গড়া। ভালবাসা মানে ছল করে দেখা এক চাহনী, ভালবাসা মানে শ্রদ্ধাবোধের আগমনী। ভালবাসা মানে রক্ত দিয়ে লেখা কোন নাম, ভালবাসা মানে অন্ধ ভাবে করা প্রনাম। ভালবাসা মানে গৃহ ত্যাগে ছুটে চলা, ভালবাসা মানে বিরতিহীন কথা বলা। ভালবাসা মানে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়া, ভালবাসা মানে জীবনকে বিসর্জন দেয়া। ভালবাসা মানে নতুন নত...

এবার জয় হবেই

Image
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ্য পুরুষ একবার সহবাসে যে পরিমান বির্য নির্গত করে তাতে ২০-৩০ কোটি স্পার্ম নির্গত হয়,( স্থান পেলে ২০-৩০ কোটি বাচ্চা তৈরি  হতো) এই ২০-৩০ কোটি স্পার্ম, মায়ের ওভামের দিকে পাগলের মত ছুটতে ছুটতে পৌঁছায় ৩০০-৫০০ মাত্র, আর বাকিরা এই "ছুটে চলার" দৌড়ে ক্লান্ত, শ্রান্ত অথবা পরাজিত হয়ে মারা যায়, বিলীন হয়ে যায়। এই ৩০০-৫০০ স্পার্ম, যেগুলো ডিম্বানুর কাছে যেতে পেরেছে তাদের মধ্যে মাত্র একটি,মহা শক্তিশালী স্পার্ম ডিম্বানুকে ফার্টিলাইজ করে অথবা ডিম্বানুতে আসন গ্রহন করে, সেই ভাগ্যবান স্পার্মটি হচ্ছেন আপনি কিংবা আমি-অথবা আমরা সবাই কখনও কি এই মহাযুদ্ধের কথা মাথায় এনেছেন? আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার চোখ,হাত পা মাথা ছিল না! তবু আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার কোন সার্টিফিকেট ছিল না! মস্তিষ্ক ছিল না, তবুও আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়েছিলেন, যখন আপনার কোন শিক্ষা ছিল না, দৌড়েছিলেন কারও সাহায্য ছাড়া, শুধু ছিলেন মহান আল্লাহতালা এবং আপনি জিতেছিলেন। আপনি তখন দৌড়ছিলেন, যখন আপনার একটি গন্তব্য ছিল এবং সেই গন্তব্যের দিকে উদ্দেশ্য ঠিক রেখে একা একাগ্র ...

হাসি মুখ

Image
বনবন পাখা ঘোরে হাওয়া লাগে গায় জান্নাত বুড়ি দুধ-ভাত নিজ হাতে খায়। পাশে তার পোষা পুষি মিউ মিউ ডাকে এক মুঠো মাখা-ভাত খেতে দেয় তাকে। জান্নাত বুড়ি এতটুকু পা পা করে চলে কাঁপে দু'পা তবু যায় মা যে যেতে বলে। হাসিভরা মুখ তার ফিরে ফিরে চায় যেই ডাকে 'কাছে এসো' হেসে হেসে যায়।

আমি একটি পাগল

Image
গল্প শুনবি, আমার জীবনের গল্প পাঁচ বছর পর আমায় দেখতে এলি, ভালো  আছিরে, খুব না হলেও অল্প! তুই আছিস আজ, ওরা বলে, আমি নাকি একা একা কথা বলি। ডাক্তারগুলো খুব ডাকাত ভাই। খালি ট্রিটমেন্টের উপর ট্রিটমেন্ট, আমি এখন মুক্তি চাই। জানিস! জানিস ওরা না, ভালো মানুষকেও পাগল বানায়। এই যে আমাকে দেখ একদম সুস্থ! আচ্ছা! তুই বলতো আমি কি পাগল? ওরা মিছে মিছে আমাকে মারে, খেতে দেয় খুব কম। আমি নাকি রোজ রাতে গান গাই, আর বাঁধাই গন্ডগোল। হা হা হা গান গাইলেই,  গন্ডগোল হয় নাকি? সব দোষ তোর বাবার, অযথা এখানে দিয়ে গেল। সবগুলি পাগল বুঝলি, মেন্টাল আর কি! তোর বাবা আমার আপন কাকা হয়ে, কেমনে এটা পারলো? আপন মানুষ যদি পাগল কয় ডাক্তারদের কি বলব, ওরা তো পর! আমি আর পাগল নেই রে, তোদের আর নেই ভয়। তোকে আর মারবোনা কোনদিন, এই হাত বাড়িয়েছি ধর। পাগলা গারোদে আমার কেউ নেই, বড় একা হয়ে গিয়েছি রে ভাই! সারাদিন ডায়রীটা নিয়ে পড়ে থাকি, সুবন্যার দেয়া সেই ডায়রিটাই শুধু আছে। আমাকে নিয়ে যা! একি রে! চলে যাচ্ছিস যে বোকা! আচ্ছা যাচ্ছিস যা! সুবন্যাকে বলিস, তার দেওয়া ডায়রীর সব পৃষ্ঠাগুলো শেষ হয়ে গেছে। ...

আমার গ্রাম

Image
শহর থেকে খানিক দূ রে আমার গ্রামের আবাস, ছোট্ট বেলাতে ঐ গ্রামে ছিলো মোর নিবাস। গ্রামের পাশে স্কুল আছে আছে বাজার হাট, মাদ্রাসা পাশে আছে আছে মসজিদ মাঠ। খানিক দূরে নদী আছে আছে নৌকার পাল, মাঝখানেতে জমি আছে আছে চাষীর হাল। বাড়ির পাশে দাদার বাড়ি আরোও কাছে নানার বাড়ি, শৈশব আমার গাথা আছে অপূর্ব এ গ্রামের মাঝে। বর্ষাকালে আমার গ্রামে বন্যা আসতো ভেলা নিয়ে, ভেলায় চড়ে এ গ্রাম ও গ্রাম যেতাম বড়ো মজা করে। শীতের বেলায় বট তলাতে বসতো কতো রঙের মেলা, আমরা সবাই খেলা করে কাটিয়ে দিতাম নিদ্রাবেলা। পাঠশালাতে যাওয়ার বেলা সাথী নিয়ে যেতাম বিলে, আম বাগানের মাঝে বসে মার্বেল খেলতাম সবাই মিলে। প্রতি নবান্নে আমার গ্রামে পিঠা হতো সবার ঘরে, এসব পিঠা খেয়ে আমি তৃপ্ত হতাম প্রান ভরে। আমার দাদুর আম বাগানে হরেক রকম আমের ঘ্রাণে সকাল বিকাল আম কুড়াতাম ঝড়ো হাওয়া ব্যতী রেখে আমার গ্রামের মানুষগুলোর মন খুব উদার ও সরল, অনেক সময় শান্ত তারা যথা সময়ে হয় যে গরল। এমন গ্রামটি আর কোথাও পাবে না ভাই তুমি বিচিত্র এই গ্রামটি যে ভাই আমার জন্মভূমি।

ভিনদেশী কন্যা

Image
শীতের দিন, প্রতিদিনের মতোন আজও নিজের সকল কাজগুলো শেষ করিয়া বিছানায় মাথা দিলাম। একটু ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করিতেছি, বুঝতেই পারিতেছি কিন্তু কিছুতেই চোখে ঘুম মেলাইতে পারিলাম না। মাথায় কিসের যেনো চিন্তা-ভাবনা বারেবার চলিয়া আসিতেছে। হঠাতই মনে পড়িয়া গেলো ভিনদেশী এক কন্যার কথা। যার সাথে আমার কোনোদিনও কোনরকম দেখা হয়েছিলো না। অনেকদিন আগের কথা, তখন আমাকে চেনার কোনো উপায় ছিলো না। আমি ছিলাম আদিম যুগের একটা ছেলে। ছিলো না কোনো অহংকার, ছিলো না কোনো বিলাশীতা। নিজের কর্ম নিয়া আমি সদাই ব্যস্ত থাকিতাম। শহর থেকে অনেক দূরে নির্জনে থাকিতে খুব পছন্দ করিতাম। তাই তো, আমার খুব পছন্দের একটি জায়গা, হৃদয়পুর। যেখানে আমি বারবার ছুটে যাইতাম। আমি আমার নিজের কোনো প্রশংসা কিংবা বদনাম করিতেছি না। ইহা নেছক জানানোর জন্যেই। আমি ছিলাম সাদাসিধে একটি মানুষ। কথাই আছে, সাদাসিধে মানুষের আবার মনের মানুষ হয় নাকি? কথাটি সম্পূর্নই মিথ্যা। আমারও মনের মানুষ ছিলো, কিন্তু তাকে কোনোদিন দেখেছিলাম না। শুধুই কল্পনাতে তাকে দেখিতাম। তার সাথে আমার কল্পপ্রেম হয়েছিলো, প্রেয়সী তোমারে মোর মুক্ত মনো ঘরে, হৃদয় পিঞ্জরে বন্দি করেছি গোপনে। পর...

বিজয় পণ

Image
তরুণ প্রাণে গেয়ে গান জুড়াবো মোরা নিঃস্ব প্রাণ, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। দুষ্কর কার্য সিদ্ধি করবো আপন শক্তিতে চিরদিন লড়বো। বয়ে চলবো হৃদয় শক্তি- অহম ভেঙ্গে খর্ব করবো। বিবেকে স্থান পাবে না হিংসা দূরে ছুড়বো আপন লিপ্সা। সুখের ধরা মধূময় করবো- এটাই হবে তরুণ ইচ্ছা। তবেই ফুটে উঠবে যেন অবুঝ মনের তরুণ গান, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। বিজয়-দর্পণে হবই মহৎ থাকলে পরে অটুট সৎ। স্বার্থ হবেনা জীবন দিশারী ছুটাবো পথে সুখের রথ। দুঃখের গাহন দূর করবো শান্ত হৃদয়ে মোরা লড়বো। সকল অসারতা দূর করে চির শান্তি ফিরিয়ে আনবো। গল্প গানে সুখের সনে ফুটাবো ভূমে আপন ক্ষণ, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। সত্য পথে এগোবো মোরা করবো না’ক খুব ত্বরা। ফুলকি হয়ে জ্বালিয়ে দেব তিক্ত আধাঁরের পিছু যারা। মিথ্যে আশার মরণ হবে মরণ নেশা দূরে রবে। চলতে দেব না অত্যাচার আর তবেই ধরা সুখি হবে। ধরার মাঝে স্বপন ছড়াতে একলা একাই করবো পণ, বিজয় উল্লাসে ছুটবো মোরা হাত জাগাবো; করবো রণ। আকাশ থেকে জোছনা ধরে সবার হৃদয়ে আনন্দ ভরে। মাখবো মোরা সুখের রং আমাদেরই কুড়...

আমি যাচ্ছি চলে

Image
'মা' আমি যাচ্ছি চলে অচেনা কোন এক গাঁয়, যে পথে হাটলে আর কেউ দোষ দিবেনা মোর ঘায়। রোজ গিয়ে খেলতাম আমি মোর গাঁয়ের এক মাঠে, তাই দেখে রোজ লোকেরা আমায় শাসাত গাঁয়ের হাঁটে। দুষ্টুমিতে ছিলাম পাকা ঘুরতাম আমি সারাবেলা, তাই দেখে গ্রামের সবাই করতো মোরে অবহেলা। বাবাকে গিয়ে বলে সবাই কি করে তোর ছোট ছেলে, সারাদিন দেখি ঘুরে বেড়ায় ফরাজি বাড়ির বড় ঝিলে। কাজ নেই তবুও দোষ কি তাহার? সময় তো তার যায় রসের, ঘূরে বেড়াতে এমন কিছুই দেখি নাতো তার দোষের। সবাই বলে তাড়াতারি তুই এই গ্রামটা ছাড়, নাহলে একদিন ভেঙে দেবো তোর হাত-পা কিংবা মস্ত ঘাড়। কারন আমি বেকার ছিলাম ইন্টার ডিগ্রি শেষ, চাকরি নাই তাই বসে খাচ্ছি তবুও অতিষ্ট আজ দেশ। অবজ্ঞার চোখে দেখতে সবাই কারন আমি ছিলাম বেকার, আমার মতো শিক্ষিত যারা তারা কি শান্তিতে ছিলো আর! তাই একদিন ঘুম থেকে আমি উঠলাম খুব সকালে, মাকে ডেকে বললাম 'মা' আমি যাচ্ছি চলে!

হৃদয়পুর হাইস্কুল

Image
একদিন আমি শুধু আসি নাই পড়ে স্কুল ইউনিফর্ম, গার্ড বলে কি না আজকে নাকি মেজাজ স্যারের চরম। শার্টটা বেহায় নোংরা হয়েছিলো তাই, ধুয়ে দিছি গতকাল। শুকায়নি বলে আসি নাই পড়ে তাই, বের করে দেবে প্রিন্সিপাল? শাসিয়ে বলে গল্প শোনাও, এযুগে কারও এক শার্ট থাকে নাকি? হাসালেন জনাব, কোচিং এ এখনও তিন মাসের বেতন বাকি। পেটে ভাত নেই, ফুটানি দেখ প্রাইভেট পড়িস্ ব্যাটা! না হলে শুধু ক্লাসের ভরসায় চুকে যাবে যে ল্যাটা। ক্লাসে স্যারেরা পড়াতে আসে নাকি? দিতে আসে কোচিংয়ের বিজ্ঞাপন তাওবা, আমি দোষ দিবো কাকে? কতই বা পাই বেতন! যা পায় তা চলে যায় দিতে খরচ আর বর্ধিত বাসা ভাড়া, চলবে কিভাবে সারা মাস? প্রাইভেট খোর ছাত্র ছাড়া। এই যদি হয় স্কুলের দশা তবে আমি বলি কি স্যার, স্কুলের নামটা বদলে রাখেন না, পাঠ্যজ্ঞানের বাজার। দরদাম করে পাঁচটা বছর খেঁটে কিনে নেবো সার্টিফিকেট, পন্যের মান বেড়ে যাবে তার কিনবে যে দামী টিকেট। স্যার চুপ করে কিবোর্ড চেপে কি জানি একটা লিখলো? প্রিন্টার দিয়ে পরে ছেপে নিয়ে টিসিটা আমায় ধরিয়ে দিলো। বলে হেসে দিয়ে, যাও বাবা যাও! এতো জ্ঞানী হলে পরে, স্কুলে রেখে লাভ হবে নাকো কিই ...

চলো---স্বপ্ন দেখি

Image
স্বপ্ন দেখতে কে না ভালবাসে। সেই ছোট্ট বেলা হতেই আমরা অনেক স্বপ্ন দেখে আসছি। কিন্তু, কোন স্বপ্নকেই আমরা অনেকে বাস্তবতায় রূপ দিতে পারি নাই। ছোট্ট বেলায় এমন হয়েছে, ঘুমিয়ে পড়েছি- স্বপ্নে দেখি বালিশের নীচে অনেক টাকা, কিন্তু ঘুম ভাঙতেই হাত দিয়ে দেখি, কোন টাকা নেই-মনটা বড়ই খারাপ। আসলে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলে আমরা আমাদের কাঙ্খিত জিনিস কখনোই পাবো না। বিখ্যাত ব্যক্তিগণ তাই স্বপ্ন নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। যে স্বপ্ন মানুষকে ঘুমোতে দেয় না, প্রকৃতই তা আমাদের কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছতে সহযোগিতা করে। ছোট্ট বেলায়, সন্ধ্যায় আমরা অনেকেই আকাশের দিকে তাকিয়ে অন্ধকারে তাঁরা গুনেছি, মনে হয়েছে-যদি তাঁরাগুলো ছুঁইতে পারতাম, কিন্তু পারি নাই। এখন আমরা বুঝতে পারি কেন ছুঁতে পারি নাই। কারণ আমরা তখন যা অনুভব করেছি, তা হলো আমাদের অবুঝ কল্পনা। কিন্তু এখন আমরা বুঝমান। আমাদের জীবনটাকে আমরা পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারি।আমাদের স্বপ্ন গুলোকে সাঁজাতে পারি। স্বপ্নের সাথে তাল মিলিয়ে  ঠিক যেভাবে চাই, নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে পারি। তবুও কেন জানি  আমরা স্বপ্ন পূরণে হতাশ হয়ে যাই। এ হতাশার জন্য অনেকে স্বপ্ন দেখতে চাই না। যারা স্বপ...

অস্তিত্ব

Image
তোমার আধার ভাঙা ভোর, স্নিগ্ধ পাখির কলতান, আমার অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দ, সোনায় জেগে ওঠার গান || তোমার প্রাতরাশ পরিপাটি, গোছানো অফিস এর সমান, আমার জিভ পোড়ানো চায়ে, হাজির পাঁচ মিনিট এর সান || আমার লোকাল ট্রেন এর সফর, তোমার অফিস গাড়ির হর্ন, আমার টিফিন ব্রেক এ পাউরুটি, তোমার কফি আর পপকর্ন || তোমার কাজের ফাঁকে আড্ডা , আর ল্যাপটপ এর নীল আলো, আমার ফিরতি পথে বাজার, চোখে ক্লান্তি এলোমেলো || তোমার টিভির রিমোর্ট হাতে, অলস সন্ধেবেলা আসে, আমার রান্না ঘরের বাসন, টুং টাং শব্দ তুলে হাসে || আমার হাতে কমপ্লান এর কাপ, মেয়ের হোমওয়ার্ক এর খাতা, তুমি ব্যাস্ত সেলফোনে, সোফায় এলিয়ে দিয়ে মাথা || তোমার রাত নটার ডিনার, টান টান বিছানার চাদর, আমার সবজি রাখা প্লেটে, ঠান্ডা রুটির আদর || তোমার নিঝুম রাতের তারা, স্বপ্ন সুখদিয়ে সাজানো, আমার ভাবনা দিশে হারায় , অসীম রাত জাগানো || আমার ব্যাস্ত সারাদিনের , এমন রুদ্ধ করে দ্বার, বুঝি সাজাই জীবনটাকে, নতুন করে আবার || আমার বন্ধ চোখের পাতা, মনের জানলা হাট খোলা, গোপন ইচ্ছে গুলোর সাথে, আমার আপন মনে চলা || এখন নেইকো কোনো বাঁধন, আর নে...